দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক অগ্রগতি, নতুন সুযোগ ও অভিন্ন সমৃদ্ধির শক্তিশালী চালিকাশক্তিতে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ কর্মসংস্থান এবং পারস্পরিক লাভজনক ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মঙ্গলবার টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কান্তেইয়ে’-তে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করলে আরও সহনশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব। এমন একটি অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে হবে, যা বর্তমান প্রজন্মের কল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও স্থায়ী অবদান রাখবে।
এর আগে সকাল পৌনে ১২টায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন তারেক রহমান। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন তিনি। অন্যদিকে জাপানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে জাপানি ভাষায় ‘কোন্নিচিওয়া’ বলে শুভেচ্ছা জানান তারেক রহমান। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আতিথেয়তা ও উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য দেশটির সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন লক্ষ্য দুই দেশের বন্ধুত্বকে সুদৃঢ় করেছে।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জাপান স্বীকৃতি প্রদানকারী প্রথম দিকের দেশগুলোর অন্যতম। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম মূল্যবান উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে জাপানের অবদানের কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আলোচনার বিষয় তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও এগিয়ে নিতে জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, রেলপথ, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছেন দুই নেতা।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা বিনিময় হয়েছে। বৈঠকের ফলাফল ও দুই দেশের অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো যৌথ বিবৃতিতে তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরে জাপানের বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কয়েক দশকের বন্ধুত্ব, আস্থা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে বাংলাদেশ-জাপান অংশীদারত্ব গড়ে উঠেছে। এখন এ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
জাপানের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশের বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান এবং দেশের প্রবৃদ্ধির পরবর্তী পর্যায়ে অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে উভয় দেশই লাভবান হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে জাপানি ভাষায় ‘আরিগাতো গোজাইমাস’ বলে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এমএম/